Image description

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের (৩১) মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় 'ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং'-এর মালিক মোহাম্মদ ফরিদকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নিহত পর্যটকের বোন মেধা মৃত্তিকা রায় রোববার বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দায়িত্ব কক্সবাজার রিজিয়নের ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপারকে অর্পণ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে অক্ষর শৌভিক রায় দরিয়ানগর সমুদ্রসৈকতে যান। সেখানে পরিচালনা কর্তৃপক্ষের প্ররোচনায় তিনি প্যারাসেইলিং রাইডে অংশ নেন। তবে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চরম অবহেলার কারণে মাঝ আকাশে দড়ি ছিঁড়ে তিনি সমুদ্রে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে কোনো উদ্ধারকর্মী বা লাইফগার্ড না থাকায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়, সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজেও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি ও পরিচালনাকারীদের অবহেলার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সৈকতকর্মী ও কক্সবাজার পৌরসভার যৌথ অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয় এবং তাদের নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে 'ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং'-এর মালিক মোহাম্মদ ফরিদ মুঠোফোনে জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এই মুহূর্তে কথা বলতে পারছেন না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন থেকে ঐ প্যারাসেইলিং পয়েন্টের কোনো অনুমোদন ছিল না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কক্সবাজারের সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনিয়ম ও অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মানবকণ্ঠ/এমআর