বাঁশখালীতে পাহাড়ধসের মাটি বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে সড়কে জমে থাকা মাটি সরকারি কাজে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১২১ ট্রাক মাটি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবদু শুকুর।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে পূর্ব চাম্বল আদর্শগ্রাম আশ্রয় প্রকল্প থেকে ধুইল্যাঝিরি যাওয়ার সড়কের প্রায় ৩০০ ফুট অংশে বিপুল পরিমাণ মাটি ধসে পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাঙা সড়ক সংস্কারে ওই মাটি ব্যবহারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় চাম্বল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সেই মাটি সরকারি কাজে ব্যবহার না করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে দেয়। অভিযোগকারী আবদু শুকুরের দাবি, প্রায় ১২১ ট্রাক মাটি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ায় ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা মেলে স্কেভেটর ও ডাম্পার ট্রাক চালকদের বক্তব্যে। চালক মিজান, আবু ও মনির জানান, "মেম্বার জসিম আমাদের বলেছিলেন ইউএনও সাহেবের অনুমতি আছে, তাই আমরা যেন মাটিগুলো সরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেলি। কিন্তু কাজ শেষে তিনি আমাদের কাছে প্রতি গাড়ি মাটির জন্য ৪৫০ টাকা করে দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ৬০ হাজার টাকা ইউএনও অফিসে দিতে হবে। পরে তিনি আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সেই টাকা আদায় করেন।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, "আমি পাহাড়ধসে রাস্তায় পড়া মাটি অপসারণ করেছি। মাটি বিক্রি করেছি কি না সেটা দেখার বিষয় ইউএনও সাহেবের। আমার ওয়ার্ডে যা মন চায় তা আমি করব, আপনাদের জিজ্ঞাসা করার কে?" এ কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, "মাটি বিক্রির বিষয়ে ইউএনও স্যারকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়া উচিত।"
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, "মাটি বিক্রির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments