Image description

হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কোনোভাবেই পিছু হটবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজা যুদ্ধ বন্ধে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত একটি খসড়া প্রস্তাবের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলের মতপার্থক্যও পরিষ্কার।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ শুরু করবে এবং ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে গাজার দখলকৃত প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে আগামী অক্টোবরে নির্বাচনের মুখে থাকা নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসের পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ ঘটাতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো খসড়ায় ইসরায়েল সম্মত হয়নি এবং তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও অবস্থান ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই গাজায় স্বজনদের আহাজারি ও মরদেহ উদ্ধারের হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা শহরের সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সম্প্রতি ১১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি শিশু রয়েছে। গত মঙ্গলবার গাজাবাসীরা সেই হামলায় নিহত শতাধিক মানুষের গণজাজানা ও দাফন সম্পন্ন করেন। নিহতদের বেশির ভাগই হাসায়না ও আবু শরিয়া পরিবারের সদস্য ছিলেন।

সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে নতুন করে নিহতের ঘটনা ঘটছে। একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে দুই পক্ষ। গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বর্তমানে তাঁবুতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

মানবকন্ঠ/এমআর