পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়: নামোভদ্রা বস্তিবাসীদের মানববন্ধন-গণস্বাক্ষর
রাজশাহীতে ২০০ ভূমিহীন পরিবারের আবাসন অধিকার নিশ্চিতের দাবি; পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদকে ‘অমানবিক’ আখ্যা
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা লেকপাড় এলাকার ভূমিহীন ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাসস্থান মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। তাই বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে নামোভদ্রা লেকপাড় বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র ইউথ ফোরাম এবং গ্রিন কোয়ালিশন, রাজশাহীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এবারের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বাসস্থানের অধিকার সাংবিধানিক অধিকার’।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বরেন্দ্র ইউথ ফোরামের সভাপতি শাইখ তাসনিম জামাল, গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহীর সভাপতি ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, জুলাই-৩৬ পরিষদের মাহমুদ জামাল কাদেরী, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়াস) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সেভ দ্য ন্যাচার লাইফের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম এবং নগর দরিদ্র অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব নিলুফা ইসমত আরাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিতে প্রায় ২০০ ভূমিহীন পরিবার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদের উদ্যোগকে অমানবিক উল্লেখ করে তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে বস্তিবাসীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত উপকারভোগীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তারা পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে কোনো বস্তি উচ্ছেদ না করা, সব বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন অধিকারকে জাতীয় ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
কর্মসূচি শেষে উপস্থিত নাগরিকদের অংশগ্রহণে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, সংগৃহীত স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপির সঙ্গে জমা দেওয়া হবে, যাতে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রেখে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।




Comments