Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বর্তমান সময়কে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতের পর ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। তাই আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের এটিই ‘সবচেয়ে ভালো সুযোগ’।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, "যখন একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা উঠছে, আমি বিশ্বাস করি এখনই তার সেরা সময়। কারণ ইরানে এখন জাতীয় সংহতি ও শক্তি সুসংহত রয়েছে। আমার যতদূর জানা, সাম্প্রতিক নানা চ্যালেঞ্জ ও সংঘাত থেকে ইরান বিজয়ী এবং শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।"

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান মনে করেন আলোচনার মাধ্যমেই ইরান তার আন্তর্জাতিক অধিকার আদায় করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার দেশ ও জনগণের ন্যায্য অধিকার ছাড়া অন্য কিছুই দাবি করছে না।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, "শুধু যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিশ্বাসের পরিবেশ’ থেকে বেরিয়ে আসার শর্ত দিয়েছেন তিনি। পেজেশকিয়ানের মতে, ইরান ওই সমঝোতা স্মারককে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু তার জন্য ওয়াশিংটনকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তেহরানের দৃষ্টিতে ওয়াশিংটন এখনো একটি ‘অবিশ্বাস্য’ রাষ্ট্র।

সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান তাঁর দেশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "সংলাপ মানেই তেহরানের মৌলিক অবস্থানে পরিবর্তন নয়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ঔপনিবেশিক ও অপরাধী শক্তি এবং ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আদর্শ অপরিবর্তিত থাকবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।"

পেজেশকিয়ানের দাবি, ইরানের দৃঢ় কূটনীতির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগও আনেন। তাঁর দাবি, ইরান ও ওমানের সম্মত পদ্ধতি এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প নৌপরিবহণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা চুক্তির পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিরোধগুলো ‘মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে’ নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

সূত্র: আনাদোলু

মানবকণ্ঠ/ডিআর