দেশী আম শেষ হতেই পুঠিয়ায় হাইব্রিডের দাপট, কেজি ২০০ টাকা!
রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্থানীয় জাতের সুস্বাদু দেশী আম শেষ হয়ে আসতেই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড আম। বাজারে দেশী আমের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এসব আমের দাম এখন আকাশচুম্বী। স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে মানভেদে প্রতি কেজি হাইব্রিড আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত, যা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পুঠিয়া বানেশ্বর বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সময়ের জনপ্রিয় দেশী আমগুলো এখন বাজার থেকে প্রায় বিলীন। এই সুযোগে বাজারে জায়গা করে নিয়েছে গুরমতি ও বারোমাসি কাটিমনসহ নানা উন্নত হাইব্রিড জাতের আম।
আম ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে দেশী জাতের আমের ফলন গতবারের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশী আমের মজুদ ফুরিয়ে গেছে। তবে আমপ্রিয় মানুষের কাছে চাহিদা এখনো তুঙ্গে থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার ও আমভোগীরা অনলাইন কুরিয়ারের মাধ্যমে চড়া দামেই এসব হাইব্রিড আম সংগ্রহ করছেন।
বানেশ্বরের খুচরা আম ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও তারেক আলী বলেন, "বাজারে দেশী আম আর নেই বললেই চলে। এখন যা পাওয়া যাচ্ছে সবই হাইব্রিড জাতের আম। পাইকারি বাজারেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।"
বাজারে আম কিনতে আসা ক্রেতাদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত শ্রেণির। মৌসুমের শেষে আমের দাম বেশি হবে জেনেও তারা শখের আম সংগ্রহ করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৌসুমের শেষের দিকে লেট ভ্যারাইটি বা হাইব্রিড জাতের আমই মূলত বাজার ধরে রাখে। বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে স্থানীয়ভাবে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমের ভালো দাম পাওয়ায় অনেক বেকার যুবক বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ বৃদ্ধি করে দাম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে। বর্তমানে আরও কিছু নতুন নাবি জাতের আম বাজারে পুরোদমে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিআর




Comments