ভারতের কেরালা রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালাম’ করার প্রস্তাব নিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) লোকসভায় বিল উত্থাপন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লোকসভার কার্যতালিকা অনুযায়ী, ‘কেরালা (অল্টারেশন অব নেম) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হবে।
এর আগে গত ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালাম’ করার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।
কেরালা বিধানসভা ২০২৪ সালের ২৪ জুন সর্বসম্মতভাবে রাজ্যের নাম ‘কেরালা’ থেকে ‘কেরালাম’ করার প্রস্তাব পাস করে। পরে সংবিধানের প্রথম তফসিলে থাকা রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানায় রাজ্য সরকার।
কেরালা সরকারের প্রস্তাবে বলা হয়, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যটির নাম ‘কেরালাম’। ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মালয়ালম ভাষাভাষী মানুষের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ কেরালা গঠনের দীর্ঘদিনের দাবির কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
ভারতের সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে কোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। এ অনুযায়ী, সংসদ আইন করে কোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ছাড়া সংসদের কোনো কক্ষে উত্থাপন করা যায় না।
রাজ্যের নাম, সীমানা বা আয়তন পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলে রাষ্ট্রপতি বিলটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভার মতামতের জন্য পাঠান। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা যায়। এরপর সংসদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিল পাস হলে এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নাম পরিবর্তন কার্যকর হয়।
‘কেরালা’ থেকে ‘কেরালাম’ করার পক্ষের ব্যক্তিরা এটিকে রাজ্যের মালয়ালম ভাষাভিত্তিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তবে কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরসহ সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শুধু নাম পরিবর্তন করলেই রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট, ঋণ বা অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে না।
নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের রাজনৈতিক সময় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন আসায় রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই পক্ষই এই উদ্যোগের রাজনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এ ছাড়া সরকারি নথি, ওয়েবসাইট, সাইনবোর্ড ও পাঠ্যবইয়ে নাম পরিবর্তন করতে সম্ভাব্য ব্যয় এবং ‘কেরালাইট’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এমআর




Comments