অনলাইনে পরিচয় মাত্র তিন মাসের। শুরুতে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ ছিল বন্ধুত্বের মধ্যেই। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। দূরত্ব, ভিন্ন সংস্কৃতি কিংবা ধর্ম কোনো কিছুই তাদের বন্ধুত্বে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সেই বন্ধুত্বের টানেই চীন থেকে যশোরের মনিরামপুরের প্রত্যন্ত হুরগাতী গ্রামে ছুটে এসেছেন ৪২ বছর বয়সী ইউ লিয়াংলিয়াং।
রোববার(৯ আগস্ট) সকালে ওই গ্রামে তার আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়িটিতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অপরিচিত এক বিদেশি নাগরিককে দেখতে স্থানীয় অনেকেই বাড়ির আশপাশে জড়ো হন।
ইউ লিয়াংলিয়াং পেশায় একজন জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশলী। তার জন্ম চীনের শানডং প্রদেশে। পূর্ব উপকূলীয় এই প্রদেশটি পীত সাগর ও বোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইউ লিয়াংলিয়াং বড়। তার বাবা ইউ সংউই এবং মা কিউই জুয়েজুয়ান। পাসপোর্টে থাকা তথ্য ও ভাষাগত অ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাট’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওই তরুণীর সঙ্গে ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাস ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। একপর্যায়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
২০ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে পরিচিত কেউ না থাকায় অনলাইনে পরিচিত ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে মনিরামপুরের হুরগাতী গ্রামে আসেন ইউ লিয়াংলিয়াং। লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে পৌঁছান।
ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু বন্ধুত্বের টানেই ওই বাড়িতে আসেননি। পরিবারের সম্মতি পেলে ওই তরুণীকে বিয়ে করার ইচ্ছাও ছিল তার। তবে তরুণীর বয়স কম হওয়ায় তার সেই আশা পূরণ হয়নি।
এদিকে হঠাৎ করে এক বিদেশি নাগরিক বাড়িতে চলে আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে তরুণীর পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নানা কৌতূহল ও আলোচনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
তরুণীর মা বিউটি খাতুন ও দাদি আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরেই বন্ধুত্বের টানে ওই চীনা নাগরিক তাদের বাড়িতে এসেছেন। তবে তার আকস্মিক আগমনে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের আকস্মিক আগমনকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল থেকেই হুরগাতী গ্রামের ওই বাড়িতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়। বিদেশি নাগরিককে একনজর দেখতে অনেকেই সেখানে ভিড় করেন।
এমআর




Comments