Image description

আমরা যা খাই, তা কীভাবে শরীরের ভেতরে শক্তি এবং পুষ্টিতে রূপান্তরিত হয়, তা নিয়ে আমরা খুব কমই ভাবি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের পরিপাকতন্ত্র একটি অত্যন্ত জটিল এবং বিস্ময়কর নেটওয়ার্ক, যা খাবারকে ভেঙে পুষ্টিতে পরিণত করে শরীরের শোষণ উপযোগী করে তোলে। আপনার শরীর কীভাবে এবং কত দ্রুত খাবার হজম করে, তা সরাসরি আপনার সামগ্রিক সুস্থতার সাথে জড়িত।

হজম প্রক্রিয়ার ৫টি ধাপ

খাবার মুখ থেকে শুরু করে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হওয়া পর্যন্ত পাঁচটি প্রধান ধাপ অতিক্রম করে:

১. গ্রহণ: মুখগহ্বরে লালার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার কাজ শুরু হয়।

২. খাদ্যনালী: চিবানো খাবারটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খাদ্যনালীর মাধ্যমে পাকস্থলীতে পৌঁছায়।

৩. পাকস্থলী: এখানে খাবার গ্যাস্ট্রিক জুস এবং এনজাইমের সাথে মিশে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা অবস্থান করে আধা-তরল অবস্থায় পরিণত হয়।

৪. ক্ষুদ্রান্ত্র: এটি পুষ্টি শোষণের প্রধান জায়গা, যেখানে খাবার ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা থাকে এবং রক্তে প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট শোষিত হয়।

৫. বৃহদান্ত্র: অবশিষ্টাংশ এখানে ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে, যেখানে পানি শোষিত হয়ে মল তৈরি হয়।

হজমে কত সময় লাগে?

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, পুরো পরিপাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে একেক জনের একেক রকম সময় লাগে। সাধারণত পাকস্থলী খালি হতে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা, ক্ষুদ্রান্ত্র অতিক্রম করতে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা এবং বৃহদান্ত্রে ১৫ দশমিক ৯ থেকে ২৮ দশমিক ৯ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মোট ২৩ থেকে ৩৭ দশমিক ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

হজম প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ার কারণসমূহ

সবার হজম শক্তি এক নয় কেন? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

খাবারের ধরন: কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম হয়, কিন্তু প্রোটিন এবং ফ্যাট হজম হতে সময় বেশি লাগে। বিশেষ করে মাংস হজম হতে ২-৩ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ফাইবার: আঁশযুক্ত খাবার যেমন ফল এবং সবজি হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে।
বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে।
বিপাক বা মেটাবলিজম: যাদের মেটাবলিজম রেট বেশি, তাদের খাবার দ্রুত হজম হয়।
ব্যায়াম ও পানি: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত পানি পান হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও কার্যকর করে।
শারীরিক অবস্থা: ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের মতো সমস্যা হজমের গতি পরিবর্তন করতে পারে।
সুস্থ হজমের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের প্রথম ভাগে ভারী খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। এছাড়া রাতে দ্রুত রাতের খাবার শেষ করা এবং হালকা খাবার গ্রহণ করলে হজম সংক্রান্ত সমস্যা ও অকাল সুগার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। সঠিক হজম প্রক্রিয়া কেবল পেটের শান্তি নয়, বরং স্থূলতা ও জীবনযাত্রার নানা রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

এমআর