Image description

ইরানের হুমকির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে গোপনে একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। গত মাসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় যাওয়ার পর ফেরার সময় তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমানবন্দরের অন্য প্রান্তে নিয়ে গিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে তোলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে কাতারের উপহার দেওয়া সদ্য সংস্কার করা একটি জেটে করে আঙ্কারা গিয়েছিলেন। এটিই ছিল বিমানটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় নিরাপত্তার কারণে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারা বিমানবন্দরে ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর তাকে গোপনে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়।

এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের সফর সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সি-৩২এ বিমানটি রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। কয়েক মিনিট পর সেখানে পৌঁছায় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও গণমাধ্যমকর্মীদের বহনকারী বিমান।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

তুরস্কের প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে ওই সময় সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের দেওয়া বিমানটি ব্যবহার করলেও তুরস্ক ছাড়ার সময় সেটি ব্যবহার না করার বিষয়টি এ প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।

তবে ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি ‘পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণের জন্য’ পুরোনো হালকা নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করে আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যের আরএএফ মিলডেনহলে যাবেন। একই সময়ে নতুন বিমানটি ওই ঘাঁটিতে থামবে এবং সেখানে থাকা মার্কিন সেনাসদস্যদের বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য

গোপন সামরিক ফ্লাইটের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউংয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কাতারের দেওয়া জেটটিতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে এবং তা প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

চেউং আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট আগেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু রয়েছে, যারা তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসন হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করবে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে পেন্টাগনের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

এসএস