যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর পরোক্ষ প্রভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসিবি)।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত আইসিসিবির এপ্রিল-জুন ২০২৬ নিউজ বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইসিসিবি বলেছে, জ্বালানি, সার ও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, বীমা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বাধা বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ার শঙ্কা
আইসিসিবির মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে তা সামাল দিতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বাড়তে পারে। এতে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
অন্যদিকে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলে রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। সারের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইসিসিবি। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন করা আরও কঠিন হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
আইসিসিবি বলেছে, চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়তে শুরু করেছে। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এর ফলে উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় ধরনের দেশেই মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ছে।
সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নেই। সারের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় বাধা এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। উৎপাদন খাতে কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের খরচও বাড়ছে।
বিনিয়োগে সতর্ক হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
আইসিসিবির মতে, পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি ভূ-রাজনৈতিক সংকটে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, চলমান সংঘাত তা আবারও সামনে এনেছে। তাই সংঘাত দ্রুত নিরসন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।




Comments