দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২
কাগজে ১২০, স্কুলে মাত্র ৭ শিক্ষার্থী- জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন-ওয়াশরুম সমস্যার কথাও বলছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১২০ জন। শিক্ষক ১১ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন দুজন। তবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থীকে। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না। নবম ও দশম শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল তিনজন করে।
শিক্ষার্থীদের এমন কম উপস্থিতির কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এর পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও স্বল্প সন্তান নেওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী সংকটের আরও কিছু কারণের কথা জানিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি সংকটের অন্যতম কারণ। শুধু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিই নয়, বিদ্যালয়টির সাম্প্রতিক এসএসসি ফলাফলও উদ্বেগজনক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে মোট ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন। গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে আলোচনা শুরু হয়। এর পরদিন বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে কাগজে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঙ্গে বাস্তব উপস্থিতির বড় ধরনের পার্থক্য দেখতে পান গণমাধ্যমকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিদ্যালয়ে ১২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র সাতজন উপস্থিত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে- বাকি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অংশ নিচ্ছে কি না এবং বিদ্যালয়ের নথিতে থাকা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার্থী তালিকা কতটা হালনাগাদ।এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জানান, এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধরে রাখার বিষয়েও একটি বাস্তবতা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নথিতে থাকা ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত কতজন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকে, শিক্ষার্থী তালিকা কতটা হালনাগাদ এবং শিক্ষার্থী সংকটের প্রকৃত কারণ কী- এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি বিদ্যালয়ে কাগজে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও সরেজমিনে মাত্র সাতজনের উপস্থিতি এবং ধারাবাহিকভাবে দুর্বল এসএসসি ফলাফল- দুটিই এখন বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এম আর এ




Comments