হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় ২০ দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও বুধবার থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার ছোট-বড় ১৭১টি কোম্পানির অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক।
কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানান, কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এর বড় একটি অংশ রপ্তানি আয়। উৎপাদন বন্ধ থাকায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অনেক অর্ডার বাতিল করছেন। নতুন অর্ডারও নেওয়া যাচ্ছে না।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, গ্যাসের সংকট জাতীয় সমস্যা। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমাতে হয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
হবিগঞ্জে থাকা ১৭১টি কোম্পানির মধ্যে অর্ধশতাধিক পুরোপুরি রপ্তানিমুখী। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে পণ্য রপ্তানি করে। এসব কারখানার অনেকগুলো নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ব্যবহার করে।
একটি শিল্পগোষ্ঠীর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ছয়টি কারখানা রয়েছে। সেখানে প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় তারাও এখন কর্মহীন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তার দাবি, এতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।
বাদশা পাইওনিয়র নামে একটি প্রতিষ্ঠানের দৈনিক প্রায় ৩০ মেগাওয়াট গ্যাসের প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে তারা চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ গ্যাস পাচ্ছিল। বুধবার দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ হারিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কেও একই অবস্থা। সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণে কারখানাগুলোতে ছুটির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা না হলেও কাজ না থাকায় তারা বেতন পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, গ্যাস সংকট দীর্ঘ হলে উৎপাদন ও রপ্তানি আরও কমে যাবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এসএস




Comments