শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবিরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে রেজাউল শিকদারের সমর্থক মান্নান সরদার নিহত হন। এ ছাড়া একজনের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
মান্নান সরদার নিহতের ঘটনায় বুধবার তার ছেলে বাদী হয়ে জাজিরা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর বুধবার রাতে রেজাউল শিকদারের নেতৃত্বে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, বাড়িঘর থেকে গরু-বাছুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদাও দাবি করা হয়েছে।
চর গজনাইপুর এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী উকিল চৌকিদারের স্ত্রী রুবিনা আক্তার অভিযোগ করেন, রেজাউল শিকদার তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়।
সুমি বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন এবং তিনি কোনো সংঘর্ষে অংশ নেননি। এরপরও রেজাউল শিকদার তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
তবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেজাউল শিকদার। তিনি বলেন, তার জানামতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে এখন তাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, মান্নান সরদার নিহতের ঘটনায় তার ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




Comments