ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনটা যেন পুরোপুরিই বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা। দিন শেষে ৫৩ ওভারে ১৬১ রান করেছে স্বাগতিকরা। ফলে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। তবে চতুর্থ দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি ৬ উইকেট তুলে নিতে পারলেই জয়ের সম্ভাবনা অনেকটা উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। এর আগে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪২৬ রানে ১০ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের। ১৯৭ বলে ১০১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে তিনি ম্যাচের অন্যতম আলোচনায় পরিণত হন।
তানজিদের সঙ্গে বড় ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। এছাড়া মুমিনুল হক করেন ৪৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ এবং মুশফিকুর রহিম ৩৬ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন জশ হ্যাজলউড। ২৮ ওভারে ৮৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। মিচেল স্টার্ক পান ২ উইকেট।
বাংলাদেশের বড় লিডের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ২২ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ট্রাভিস হেডকে ফেরান হাসান মাহমুদ। এরপর জেক ওয়েদারাল্ডকে শূন্য রানে ফেরান একই বোলার। মার্নাস লাবুশেনকে ১ রানে ফেরান এবাদত হোসেন। পরে স্টিভেন স্মিথকে ৭১ রানে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার বড় স্কোরের আশা আরও কঠিন করে দেন হাসান মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ নেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ২টি এবং এবাদত হোসেন ২টি উইকেট নেন। ফলে প্রথম ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেডকে ১৭ রানে ফেরান হাসান মাহমুদ। ৩১ রানে মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। এরপর স্টিভেন স্মিথ ৪৪ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। হাসান মাহমুদের বলে ০ রানে আউট হন জেক ওয়েদারাল্ডও। দিন শেষে ক্রিজে আছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৬১ রান। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ২টি, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে। অর্থাৎ চতুর্থ দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত বাকি ৬ উইকেট তুলে নিতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে খুব বেশি বড় লক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ক্রিজে থাকা ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। গ্রিন ইতিমধ্যে ৪৩ রানে অপরাজিত। ফলে বাংলাদেশের সামনে প্রথম কাজ হবে এই জুটি ভাঙা। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে বাংলাদেশের বোলাররা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে চাপে রেখেছেন, তাতে ম্যাচে এখন স্পষ্টভাবেই এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে টেস্টের ফল নিজেদের পক্ষে আনতে হলে চতুর্থ দিনের শুরুটা কাজে লাগাতে হবে টাইগারদের। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা বাংলাদেশের জন্য হতে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের সুযোগ আরও কাছে চলে আসবে বাংলাদেশের।
ডিআর




Comments