Image description

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের লজ্জাজনক পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে রীতিমতো হতবাক ও হতাশ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেট কিংবদন্তি রিকি পন্টিং, মার্ক ওয়াহ এবং ম্যাথিউ হেইডেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই হারকে ‘খুবই বিব্রতকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে পরিবর্তনের সময় এসেছে। পন্টিং জানান, তিনি সাধারণত দলে দ্রুত পরিবর্তনের পক্ষে নন, তবে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টপ অর্ডার নিয়ে এখন যথেষ্ট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার মতে, নতুন একজন ওপেনার এবং তিন নম্বরে নতুন কাউকে সুযোগ দিয়ে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা উচিত। বাংলাদেশের কাছে এমন হারের পর সেই পরিবর্তন আর এড়ানো ঠিক হবে না বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে মার্ক ওয়াহ আরও এক ধাপ এগিয়ে এই হারকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে তিক্ত হার তিনি আগে কখনো দেখেননি বা মনে করতে পারছেন না। বিশেষ করে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বোলার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম দলে না থাকা সত্ত্বেও এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের বিশাল ব্যবধান থাকার পর অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে এমন হারকে বড় অঘটন হিসেবেই দেখছেন তিনি।

অন্যদিকে কিংবদন্তি ওপেনার ম্যাথিউ হেইডেন দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তার পরামর্শ হলো, ট্রাভিস হেডকে আবার পাঁচ নম্বরে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। হেইডেনের মতে, ওপেনিং হেডের জন্য আদর্শ জায়গা নয়, বরং পাঁচ নম্বরেই তিনি বেশি কার্যকর। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার অ্যালেক্স ক্যারিকে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করানো নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানান।

হেইডেন মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামোর দেশে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মোটেও কাম্য নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচকরা ম্যাচ-ফিট ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেবেন, নাকি প্রতিভাবান তরুণদের সুযোগ দেবেন—সেটিই এখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তদের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও বড় পরিবর্তন এসেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিআর