Image description

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটে অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে সিএনজিচালিত বাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় পরিবহন চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে।

বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন, চালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উপজেলার অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। যে কয়েকটি স্টেশন চালু রয়েছে, সেগুলোর সামনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চালকেরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না।

পাম্পে অপেক্ষমাণ সিএনজি চালকেরা জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার গ্যাস পাওয়া যায়। এতে গাড়ি চালিয়ে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে সিএনজি সংকট ও পরিবহন স্বল্পতার সুযোগে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁদের।

অন্যদিকে, কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে এসব কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।

গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও এলাকাবাসী।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির চন্দ্রা শাখার উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ বলেন, “গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিক চাপ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”

এসএ