Image description

শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিকর করা হয়েছে এবং এর ফলে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা ঝুঁকিতে পড়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় শুরু হতে যাওয়া ছয় সপ্তাহের জুরি ট্রায়ালটি মেটার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর জোট মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের ক্ষতি করতে পারে—এমন নকশা ও ফিচার ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।

মামলাকারীদের দাবি, মেটা তরুণ ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসায়িক লাভকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার কাছ থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কিশোরদের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরিতে মেটার রেকর্ডের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে আইনপ্রণেতা, অভিভাবক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম শিশু-কিশোরদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ডিজাইনের ক্ষেত্রে কতটা দায়বদ্ধ—এই মামলার রায়ে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি হতে পারে।

মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতিই নয়, ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শিশু-কিশোরবান্ধব নকশা ও নিরাপত্তা নীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন মামলায় মেটা গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুবিধা পেতে পারে।

ফ্যাক্ট-চেক নোট: আপনার দেওয়া মূল লেখায় Meta-এর বিরুদ্ধে মামলাটি এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবির কথা বলা হয়েছে। তবে এটিকে ‘মেটা শিশুদের ক্ষতি করেছে—আদালতের রায়’ হিসেবে লেখা যাবে না। এগুলো মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ; বিচার শেষে আদালত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

সূত্র: BBC এবং মামলাসংক্রান্ত মার্কিন আদালতের নথি।

এম আর এ