Image description

রাজশাহীর হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনে মাত্র তিন মিনিটের যাত্রাবিরতি কাজে লাগিয়ে চলন্ত ট্রেনের ওয়াগন থেকে তেল চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের এক ওয়েম্যানসহ অন্তত সাতজন এই ঘটনায় জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তেল চুরির ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কন্ট্রোল রুমের নজরে আসার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তাদের গ্রেপ্তারের আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঈশ্বরদীগামী ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত একটি ওয়াগন থেকে এই তেল চুরির ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হরিয়ান স্টেশন এলাকার রিপন, নজরুল ইসলাম নজু, শরিফুল ইসলাম, কিরন, রক্সি ও মিলনসহ কয়েকজনকে তেল চুরিতে সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তি—যাকে স্থানীয়রা ওয়েম্যান কিরন আলী বলে শনাক্ত করেছেন—ওয়াগনের ওপর থেকে একটি সাদা বস্তা নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন। নিচে থাকা সহযোগীরা বস্তাটি নিয়ে সরিয়ে ফেলার পর ওয়াগনের ভেতর থেকে ছোট বালতি ও জারকিনে তেল বের করে নামানো শুরু হয়।

ট্রেন চলতে শুরু করলে উপস্থিত ব্যক্তিরা দ্রুত নেমে যান। তবে নীল টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক চলন্ত ট্রেনের পেছনে দৌড়ে এসে তেলভর্তি জারকিন নিয়ে সরে পড়েন। কিরন আলীকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওয়াগনের ওপরে দেখা যায় এবং শেষমেশ একটি জগে করে তেল নিয়ে তিনি চলন্ত ট্রেন থেকেই লাফিয়ে নেমে যান।

স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ট্রেন থেকে তেল চুরি নতুন কোনো বিষয় নয়। এতদিন রাতের অন্ধকারে চুরি হলেও এখন প্রকাশ্যে দিনদুপুরেই তেল নামানো হচ্ছে।

রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর ঢাকাগামী ট্রেনের পাওয়ারকারে তেল সরবরাহের জন্য ওয়াগন দুটি আনা হয়েছিল। কাজ শেষে ওয়াগন দুটি ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনে ঈশ্বরদী নেওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে হরিয়ান স্টেশনে তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সময়ই এই চুরির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের ওয়েম্যানদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশেই বহিরাগতরা এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। নেসকোর কাটাখালী বিদ্যুৎ স্টেশন সাইডিং লাইনের টিএলআর ওয়েম্যান কিরন আলী ও মেট কামরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে কিরন আলী ও কামরুল ইসলাম উভয়ই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হরিয়ান স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার আরিফ হোসেন জানান, পাবনা থেকে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেসের সঙ্গে ট্রেন ক্রসিংয়ের ব্যস্ততার কারণে তাঁরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি। ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব রেলওয়ে নিরপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও জিআরপি পুলিশের ওপর বর্তায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরএনবি চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, "ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের স্পষ্ট শনাক্ত করা গেছে। ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হলেও কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

কাটাখালী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া চুরিকৃত তেলের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে হিসাব-নিকাশ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এমআর