সালথায় স্বাবলম্বী হওয়ার পথে ১৫ দুস্থ নারী
হাতে উঠল সেলাই মেশিন
ফরিদপুরের সালথায় কর্মঠ ও সেলাইয়ের কাজে অভিজ্ঞ ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে তাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আমেনা রশিদ ফাউন্ডেশন ও রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ইস্টের উদ্যোগে এসব সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সালথা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগী নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। আমেনা রশিদ ফাউন্ডেশন ও রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ইস্টের সৌজন্যে এবং সালথা উপজেলা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা জানান, তাদের অনেকেরই সেলাইয়ের কাজ জানা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে নিজস্ব মেশিন কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে কাজ জানা সত্ত্বেও তারা নিয়মিত আয় করতে পারছিলেন না। এখন সেলাই মেশিন পাওয়ায় বাড়িতে বসে কাজ করে আয় করার পাশাপাশি পরিবারের খরচে সহযোগিতা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
আমেনা রশিদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইদ্রিস আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আহাদ মিয়া।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নভেরা ডেন্টাল ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ, সালথা উপজেলা শিক্ষক নেতা রেজাউল ইসলাম, শাহেবুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দিলে তারা নিজেদের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান। একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয়ের উৎস হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের হাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তারা পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইদ্রিস আলী মোল্লা বলেন, আমেনা রশিদ ফাউন্ডেশন সব সময় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে আসছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় সেলাইয়ের কাজে অভিজ্ঞ ১৫ জন দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে এসব মেশিন কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন এবং নিজেদের পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, সমাজে অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা কাজ করতে সক্ষম ও আগ্রহী; কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছেন না। তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের দায়িত্ব। নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, অসহায় মানুষের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়ার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিশ্রমের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাবেন। এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ আবু আহাদ মিয়া বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। সেলাই মেশিন পাওয়ার পর উপকারভোগীরা নিয়মিত কাজ করলে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান। এতে স্থানীয় শিক্ষক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এনএ




Comments