Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের সময় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। পরে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে তাদের জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) ডাকসু ভবনে ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎ শেষে তাদের জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ. স্টুয়ার্ড ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি অফিসার স্কট হার্টম্যান উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মো. শাহিনুর রহমান বলেন, জাদুঘর পরিদর্শন শুরুর পর হঠাৎ লোডশেডিং শুরু হয়। পুরো সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়। এমনকি প্রতিনিধিদল জাদুঘর থেকে চলে যাওয়ার সময়ও ভবনে বিদ্যুৎ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ অতিথিদের সামনে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়া আমাদের জন্য কিছুটা বিব্রতকর ছিল। পরে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে তাদের আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন জিনিস দেখানো হয়েছে।’

এর আগে সাদিক কায়েমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ বাড়ানো, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ, গবেষণা ও ফেলোশিপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাদিক কায়েম মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ আরও সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন প্রক্রিয়া, ইংরেজি ভাষা দক্ষতা, গবেষণা ও একাডেমিক লেখালেখি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিতে ওয়ার্কশপ, সেমিনার ও কাউন্সেলিং আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষা ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নেতৃত্ব বিকাশে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও উঠে আসে।

ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, গবেষণা, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডাকসু ভিপি।

এসএস