বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন বা ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৌদি আরবনির্ভরতাও কমেনি। চলতি বছরের ছয় মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৫০ দশমিক ৮৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এ সময়ে দেশটিতে পাড়ি দিয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সিঙ্গাপুরে—৪০ হাজার ৩৯৮ জন। কাতারে গেছেন ৩২ হাজার ১২৭, মালদ্বীপে ১৫ হাজার ৯৬৯, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ হাজার ১২৯, কুয়েতে ১৩ হাজার ৭১, জর্ডানে ৮ হাজার ১৯৯, ইতালিতে ৫ হাজার ৩১৬, পর্তুগালে ৩ হাজার ৬০৮ এবং ইরাকে ২ হাজার ৮৬৩ জন।
গত বছরের একই সময়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৬ জন। কাতারে ৫৩ হাজার ১৩৫, সিঙ্গাপুরে ৩৬ হাজার ২৫১, কুয়েতে ২৪ হাজার ৪৪১, মালদ্বীপে ১৮ হাজার ২৩৭ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫ হাজার ৮৫২ জন গিয়েছিলেন।
বন্ধ শ্রমবাজারও খুলছে না
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনো চালু হয়নি। একসময় বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম গন্তব্য ওমানের বাজার নিয়েও তেমন কোনো সুখবর নেই।
ফলে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের চেষ্টা থাকলেও বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকটি দেশের ওপরই বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন নির্ভরশীল হয়ে আছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে কিছু খবর পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বন্ধ ও নতুন শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ বলেন, নতুন ও অপ্রচলিত শ্রমবাজারেও কিছু কর্মী যাচ্ছেন। সম্প্রতি মলদোভার শ্রমবাজারও খুলেছে। তবে ছয় মাসে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সৌদি আরব এখনো বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজার। পাশাপাশি নতুন কিছু দেশেও বাংলাদেশিরা যাচ্ছেন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪১টি দেশে কর্মী গেলেও প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিন ধরে এক দেশকেন্দ্রিক শ্রমবাজার গড়ে উঠেছে। অন্তত ৮ থেকে ১০টি দেশে নিয়মিত কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শ্রমবাজার খোলা, কর্মীদের দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাজারে সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সৌদি আরবনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণব্যবস্থা ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
এসএস




Comments