Image description

চট্টগ্রাম নগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ভূমি রেজিস্ট্রির কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিলে দ্রুত জমি রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন হয়, আর টাকা না দিলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একই দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন তিনি। অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে সম্পদ গড়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলাও হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বদলির সুপারিশ করা হলেও প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের ৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মো. মাহফুজুর রহমানকে চট্টগ্রাম নগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে মিরসরাই সাব-রেজিস্ট্রি দপ্তরে পদায়নের সুপারিশ চেয়ে ঢাকার মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বাংলাদেশ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। তবে ওই সুপারিশের পরও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিজের স্ত্রীর নামে কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। মামলায় মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়। মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামের পটিয়া থানার উত্তর দেয়াং মোহাম্মদনগর গ্রামের এখলাসুর রহমানের ছেলে।

দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, মাহফুজ দম্পতির এক কোটি ৭ লাখ ২ হাজার ৭৪৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তারা দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। মামলায় দুদক আইনের ২৬(২), ২৭(১) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি জনৈক আবদুর রহিমের জাল-জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দপ্তরের দেওয়া শোকজের জবাবে মাহফুজুর রহমান লিখিতভাবে জানান, ‘আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমার মরহুম পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের একজন রণাঙ্গনের সৈনিক ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পটিয়া উপজেলাস্থ কালারপুল নামক স্থানে আমার পিতা প্রথম স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা বানিয়ে এলাকার জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে উত্তোলন করেন।’

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন মাহফুজুর রহমান।

এর আগে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. মাহফুজুর রহমান। ৫ আগস্টের পর তাকে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মাহফুজুর রহমানের মুঠোফোনের দুটি নম্বরে কয়েকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সদরের ভারপ্রাপ্ত জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসি বলেন, ‘আমি এ দায়িত্বে নতুন এসেছি। বিষয়টি জেনে জানানো হবে।’

এসএ