Image description

গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রচলিত প্রক্রিয়া পেরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। গবেষণা জার্নাল প্রকাশনা প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, সহজ ও আন্তর্জাতিক মানের করতে চালু করা হয়েছে সম্পূর্ণ অটোমেশনভিত্তিক জার্নাল সাবমিশন ও রিভিউ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে গবেষণাপত্রের জন্য চালু হয়েছে ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার (ডিওআই) নম্বর। ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রুয়েটের জার্নালে গবেষণাপত্র জমা ও রিভিউ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টায় রুয়েট উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এ অটোমেশন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।

নিজেদের জনবলেই তৈরি অটোমেশন ব্যবস্থা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক নতুন ব্যবস্থার কার্যপরিধি ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের jeas.ruet.ac.bd এবং submit.jeas.ruet.ac.bd ওয়েবসাইট দুটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের অধীনে পরিচালিত Journal of Engineering and Applied Science (JEAS)-এর জন্য নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অটোমেশনভিত্তিক ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া ছাড়াই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে গবেষক বা শিক্ষার্থীরা অনলাইনে গবেষণাপত্র জমা দিতে পারবেন। একই ব্যবস্থায় পেপারের রিভিউ কার্যক্রমও সম্পন্ন করা যাবে।

শুধু সাবমিশন ও রিভিউ নয়, গবেষণাপত্র প্রকাশের পর সেটির জন্য ডিওআই নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রুয়েটের গবেষণা জার্নালকে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভলিউম-১০ থেকে ডিওআই

রুয়েটের জার্নাল ব্যবস্থাপনায় নতুন এ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ডিওআই ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রুয়েটে প্রকাশিত জার্নালের ভলিউম-৯ পর্যন্ত ডিওআই নম্বর প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভলিউম-১০ থেকে ডিওআই নম্বর প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

ডিওআই নম্বরের ফলে কোনো গবেষণাপত্রকে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে গবেষণাপত্রের ব্যবহার, উদ্ধৃতি ও অনুসন্ধান সহজ করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গবেষণাপত্র প্রকাশে কমবে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অটোমেশন চালুর ফলে গবেষণাপত্র জমা থেকে শুরু করে রিভিউ এবং প্রকাশনার বিভিন্ন ধাপে ম্যানুয়াল কাজের পরিমাণ কমবে। এতে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়বে।

এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে থাকা গবেষকরাও সহজে রুয়েটের জার্নালে গবেষণাপত্র জমা দিতে পারবেন। ফলে রুয়েটের গবেষণা প্রকাশনার পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

রুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিবের সহযোগিতায় ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করা হয়েছে। রুয়েটের নিজস্ব জনবল দিয়ে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন সহকারী প্রোগ্রামার প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম।

উপস্থিত ছিলেন যারা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুয়েটের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেন্টারের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ সাজ্জাদ, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন-আল-আজাদউল ইসলাম, ইটিই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন, ইউআরপি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল ওয়াকিল, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সজিব উদ্দিন, মানবিক বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়লা আহমেদ, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিব এবং সহকারী প্রোগ্রামার প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

রুয়েটের এ উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জার্নাল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অটোমেশন ও ডিওআই ব্যবস্থার ফলে গবেষণা প্রকাশনার প্রক্রিয়া যেমন সহজ ও দ্রুত হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে রুয়েটের জার্নালের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হবে।

এসএ