Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালে প্রথম সমাবর্তনের পর কেটে গেছে পাঁচ বছরের বেশি সময়। এর মধ্যে কয়েকটি শিক্ষাবর্ষের হাজারো শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করা বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য ডিগ্রিধারী প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকে নবম ব্যাচ পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

২০২২ সালে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ডিগ্রি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাবর্তনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ায় সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যায়।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। অনেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত, আবার কেউ উচ্চশিক্ষা ও চাকরির প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন করা হলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিপুলসংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থীকে একই অনুষ্ঠানে একত্র হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সমাবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তারিখ নির্ধারিত হলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি, ফল যাচাই, সনদ প্রস্তুত ও নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এসএস