Image description

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তাদের জবানবন্দির পরও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এবং চিনে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। তবে নিহতদের স্বজন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না এবং ঘটনার সময় বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ কেন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

রোববার রাতে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। জবানবন্দি শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন ওই দুই তরুণ। শিক্ষক তাদের দেখে ফেলায় এবং ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় তারা চারজনকে হত্যা করেন। পরে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলেও পুলিশের দাবি।

তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাসায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা রাখা ছিল। সেই টাকার কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টিও রহস্য তৈরি করেছে।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে রংপুর জিলা স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চলা এ কর্মসূচিতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীও ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই যুবককে গ্রেফতার করে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে রোববার বিকালে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। পরে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলার তদন্তের দায়িত্ব পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে দেওয়া হয়েছে। আসামিরা পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যই আদালতে স্বীকার করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শনিবার রাতে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।