বিশ্ব সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও কালজয়ী গীতিকার ডলি পার্টন আর নেই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও নিরাপত্তাপ্রধান ব্রায়ান সিভার।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় ব্রায়ান জানান, পার্টন পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুঃসংবাদটি জানাচ্ছেন। ব্রায়ান বলেন, “বহু বছর আগেই ডলি আমাকে তার মৃত্যুর খবর বিশ্ববাসীকে জানানোর দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি কেবল তার পরিবারের জন্য নন, বরং সারা বিশ্বের অগণিত শিল্পী ও স্বপ্নবাজ মানুষের জন্য সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেন।”
মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগেও (২১ আগস্ট) নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন এই শিল্পী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গত বছরের মার্চে স্বামী কার্ল ডিনের মৃত্যুর পর তিনি নিজের স্বাস্থ্যের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারেননি। তবুও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই কাজে ফেরার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, “যতদিন পারি কাজ করে যাব, যতক্ষণ না আমার স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ নেয়।”
১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। ১২ সদস্যের অভাবী সংসারে ১১ ভাইবোনের সঙ্গে বড় হওয়া ডলি ছোটবেলা থেকেই গিটার বাজানো ও গান লেখা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে স্কুলের পড়া শেষ করে তিনি স্বপ্ননগরী ন্যাশভিলে পাড়ি জমান এবং দ্রুতই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
১৯৭১ সালে ‘Joshua’ দিয়ে শুরু করে ‘Jolene’ এবং ‘Coat of Many Colors’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে ১৯৭৪ সালে লেখা ‘I Will Always Love You’ গানটি সংগীতের ইতিহাস বদলে দেয়, যা পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে বিশ্বজুড়ে বিশাল জনপ্রিয়তা পায়।
দীর্ঘ সংগীত জীবনে ডলি পার্টন ১১টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, ১০টি কান্ট্রি মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড এবং একটি সম্মানসূচক অস্কারসহ অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি কান্ট্রি মিউজিক হল অব ফেম এবং রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম—উভয় জায়গাতেই স্থান করে নিয়েছিলেন। বিশ্বজুড়ে ১৬ কোটিরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি হওয়া এই শিল্পী ইতিহাসের সফলতম নারী কান্ট্রি মিউজিক শিল্পী হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ডিআর




Comments