Image description

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৯ কেজি কাঁচামাল আমদানি করে তা রপ্তানি না করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে চট্টগ্রামের মেসার্স আর্টিস্টিক এ্যাপারেলস লিমিটেড নামক পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে। এতে সরকারের ৪ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ১৪১ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। জালিয়াতির এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বমোট ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৯২ হাজার ১৪১ টাকা জরিমানা করেছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। তবে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করেই কারখানাটি পুনরায় চালুর জন্য বিভিন্ন মহলে জোর তদবির চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরের নিউ চাক্তাই এলাকার হাজী দেলোয়ার হোসেন সওদাগর মার্কেটে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের সনদ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। গত বছরের ৭ আগস্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে গুদামে কাঁচামালের কোনো হদিস পায়নি। নথিপত্র অনুযায়ী সেখানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৯ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় মাত্র ১৪ হাজার ৭৮৬ কেজি। ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আমদানিকৃত বিশাল পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি না করে অবৈধভাবে খোলা বাজারে সরিয়ে ফেলেছে।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, দুটি চালানে মোট ৪ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ১৪১ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ অপরাধে কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী ফাঁকি দেওয়া রাজস্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারিকৃত আদেশে ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ তা তোয়াক্কা করেনি।

তদন্ত চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রহমান দাবি করেন, এই অনিয়ম আগের মালিক মনোজ কান্তি দাশের আমলে হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আইনি জটিলতা ও বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে বাঁচতে কৌশলে তড়িঘড়ি করে মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে জরিমানা পরিশোধ না করেই ওয়্যারহাউস বা গুদামটি খুলে দেওয়ার জন্য কাস্টমস হাউসে আবেদন জানিয়েছে বর্তমান মালিকপক্ষ।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতৃবৃন্দ বলছেন, কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় জালিয়াতি সম্ভব নয়। তবে বিজিএমইএ’র পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব জানান, রপ্তানি না করে কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রির প্রমাণ মিললে শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার সুদীপ্ত মন্ডল সৌরভ এই বিষয়ে বলেন, “আর্টিস্টিক এ্যাপারেলস এখন পর্যন্ত জরিমানার কোনো টাকা পরিশোধ করেনি। নিয়ম না মানায় এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।”

ডিআর