নেপালে বিধ্বংসী বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪৮৯, নিখোঁজ ২৩০০
নতুন প্লাবনের শঙ্কা
নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে ভূমিধসে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ার খবরে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল নিউজ ও রয়টার্স জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপালের কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই পাহাড়ের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ৪৮৯ জন নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৬ জন নিহত হয়েছেন চিতওয়ানে। এছাড়া নওয়ালপরাসী পূর্বে ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী পশ্চিমে ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ ২,৩৮১ জনের মধ্যে ৬৪৪ জনই বিদেশি নাগরিক। তারা মূলত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার অধিবাসী। এছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে ঘুরতে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১,৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চললেও নতুন করে প্লাবনের শঙ্কায় উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিব্বতের হিমবাহ হ্রদ বা ভূমিধসে সৃষ্ট বাঁধ ভেঙে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডিআর




Comments