ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের বিষয়ে আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আইসল্যান্ডের ভোটাররা। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণার পর অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ। পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার।
রোববার গণভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে আইসল্যান্ড সরকার। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ইইউর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। কারণ নতুন সদস্য হিসেবে আইসল্যান্ডকে জোটে নিতে আগ্রহী ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশটির জন্য বেশ কিছু জটিল বিষয়ে ছাড় দেওয়ারও প্রস্তুতি ছিল ইইউর।
আইসল্যান্ডের বর্তমান সরকার ইইউ সদস্যপদের বিষয়টিকে ‘এখন নয়তো কখনোই নয়’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তরুন ফ্রোস্তাদোতির ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘না’ ভোট জয়ী হলে ইইউতে যোগ দেওয়া নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তবে গণভোটের ফল প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই ফলাফল দেশের মানুষকে নতুন করে বিভক্ত করবে না।
তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ ইইউতে যোগ দিলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এসব উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
অন্যদিকে, ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে থাকা প্রচারকারীদের দাবি ছিল, সদস্য হলে আইসল্যান্ডে উচ্চ সুদের হার কমতে পারে এবং দেশের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রেক্ষাপটে তারা ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পক্ষে যুক্তি দেন।
তবে ‘না’ ভোটের পক্ষের প্রচারকারীরা মনে করেন, ইইউর সদস্য হলে আইসল্যান্ড তার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
২০০৯ সালে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রথম ইইউ সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল আইসল্যান্ড। পরে ২০১৩ সালে ইইউবিরোধী সরকার সেই আলোচনা স্থগিত করে দেয়। বর্তমান সরকার ইইউ সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই এবার সেই ভোট অনুষ্ঠিত হলো।
এসএস




Comments