Image description

নড়াইলের লোহাগড়া পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইকের সংখ্যা ‘বিস্ফোরণ’ আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব তিন চাকার যানবাহনের বিস্তারে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যেমন যানজট বাড়ছে, তেমনি মহাসড়কে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে শত শত ইজিবাইক ও ভ্যান প্রতিদিন শহরে প্রবেশ করছে। স্থানীয়দের ভাষায়, ‘উইপোকার মতো’ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যান সড়কে যুক্ত হচ্ছে। অথচ সেই তুলনায় সড়কের প্রশস্ততা বাড়েনি এবং নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং বা যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা নেই। লোহাগড়া বাজার, লক্ষ্মীপাশা, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা ও বাসস্ট্যান্ডের মোড়গুলোতে ইজিবাইকের জটলা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

যাত্রী ওঠানামার সময় অনেক চালক রাস্তার মাঝখানেই গাড়ি থামিয়ে দেন। এতে একটি গাড়ি থামলে পেছনে অসংখ্য যানবাহন আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের ফলে বাজারের কার্যকর প্রশস্ততা কমে গেছে, যা পথচারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর মহাসড়কে ধীরগতির এসব যান চলাচল করায় দ্রুতগামী যানবাহনের সঙ্গে প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটছে। গত ২৫ আগস্ট লক্ষ্মীপাশা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় বাচ্চু খান (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। এর আগে জুন মাসেও ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যান আরোহী এক স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারান। সচেতন নাগরিকদের মতে, সড়কের সীমাবদ্ধতা, চালকদের অদক্ষতা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।

ইজিবাইক চালক মিলন ও রহিম শেখ জানান, এটিই তাদের একমাত্র জীবিকা। অনেকে ঋণ করে গাড়ি কিনেছেন। তারা বলেন, “গাড়ি বন্ধ হলে আমাদের পরিবার না খেয়ে থাকবে। তবে প্রশাসন যদি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ও রুট নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে আমাদেরও সুবিধা হবে, মানুষের ভোগান্তিও কমবে।”

এদিকে পৌর শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা এনামুল অভিযোগ করেন, একই জায়গায় অতিরিক্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় অল্প দূরত্ব পার হতেও অনেক সময় লেগে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ছুটির সময় ও হাসপাতালের সামনে যানজটের কারণে জরুরি রোগী পরিবহনে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ইজিবাইক ও ভ্যান অদক্ষ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকেরাও চালাচ্ছেন, যারা ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করেই ওভারটেক ও যত্রতত্র গাড়ি ঘুরিয়ে থাকেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা পুরো উপজেলার যানবাহনের একটি বাস্তবসম্মত তালিকা তৈরি, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ও রুট নির্ধারণ, মহাসড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর সমন্বয় না করা হলে এই যানজট ও দুর্ঘটনার হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানুষের জীবিকা ও জননিরাপত্তা—উভয় দিক বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

ডিআর