হাসাইল-কামারখাড়া সড়কে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে বালু ভরাট, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-কামারখাড়া আঞ্চলিক সড়কের বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলি জমি ও জলাশয় ভরাটের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্রিজের পানি প্রবাহের মুখ নামমাত্র খোলা রেখে চারপাশের কৃষি জমি বালু দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের পানি প্রবাহের পথটি প্রায় রুদ্ধ করে ড্রেজার ও পাইপ বসিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। সাধারণত বর্ষাকালে এই ব্রিজের নিচ দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহিত হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে এই জমিতে প্রচুর ফসল ফলে। কিন্তু বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে ব্রিজের মুখ চেপে বালু ফেলার কারণে স্থানীয় জলমহাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে জমি ভরাট করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, যার ফলে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি পোহাতে হবে।
স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "উপজেলায় কৃষি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। তার ওপর এই গুরুত্বপূর্ণ জোড়া ব্রিজের মুখ বন্ধ করে যেভাবে রাতারাতি বালু ফেলা হচ্ছে, তাতে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা বারবার নিষেধ করলেও তারা কারোর কথা শুনছে না।"
ড্রেজারের কাজের সাথে সম্পৃক্ত রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমি এই জমির মালিক নই, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানিও না। তবে যতটুকু শুনেছি এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।"
এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানীয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ করে বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ বিষয়ে তারা পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডিআর




Comments