প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে নান্দাইলের ১০৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়
৪৬টিতে ভারপ্রাপ্ত, ৬২ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য; নৈশপ্রহরী নেই ৭২টিতে
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকসহ সহায়ক জনবলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ৪৬টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ৬২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। উপবৃত্তি, হিসাব-নিকাশ, বিভিন্ন সভা ও দাপ্তরিক কাজসহ নানা প্রয়োজনে তাঁদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ৬২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত এসব শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকিতেও রয়েছে জনবল সংকট। নান্দাইল উপজেলায় আটজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ছয়জন। দুটি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার পরিবেশ মূল্যায়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে নেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি।
নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতের বেলায় এসব বিদ্যালয়ের ভবন ও সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নৈশপ্রহরী না থাকার সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম ও বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার মূল ভিত্তি। এতসংখ্যক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদান—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি এবং শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলোও দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা বলেন, শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জনবল সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসএ




Comments