Image description

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অন্তত ১৭টি পিস্তল রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা নবী হোসেনের নেটওয়ার্কে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। আরও ১০টি পিস্তলও তার নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ও নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

তাদের দাবি, থানা থেকে লুট হওয়া এসব অস্ত্র কয়েকজনের হাত ঘুরে নবী হোসেনের লোকজনের কাছে পৌঁছাচ্ছে। অস্ত্র সংগ্রহে জড়িত কয়েকজনের নামও পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে উখিয়ার পালংখালীর আবু বশর, রামুর গর্জনিয়ার গোলাম মওলা ও ঘুমধুমের ইলিয়াস মাঝির নাম রয়েছে।

গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নবী হোসেনের কাছে প্রায় ৩ হাজার আধুনিক ও ভারী অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে জি-৩, এম-১৬, একে-৪৭, বিভিন্ন ধরনের পিস্তল, গ্রেনেড ও রকেট রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এসব অস্ত্রের বড় একটি অংশ মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে রাখা হয়েছে। ২০২২ সালে নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

মাদক ব্যবসা থেকে সশস্ত্র বাহিনী

২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন নবী হোসেন। ২০১৮ সালের দিকে তিনি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজের একটি সশস্ত্র দল গড়ে তোলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার দলে বিপুলসংখ্যক সদস্য রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসা থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে এই দলের কার্যক্রম চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতারে নজরদারি

বিজিবি জানিয়েছে, নবী হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান ও নজরদারি চলছে। সীমান্ত এলাকায় তার চলাফেরা এবং তার সঙ্গে জড়িতদের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নবী হোসেনসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, নবী হোসেনের কাছে এত অস্ত্র থাকার খবর উদ্বেগজনক। তাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি এসব অস্ত্র কোথা থেকে আসছে এবং কারা সরবরাহ করছে, সেটিও খুঁজে বের করা দরকার।

এসএস