Image description

মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল হোসেন। জমি বিক্রির টাকা থেকে ঋণ শোধ ও গ্রামের বাড়িতে ঘর তৈরি করার পর বাকি ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না তার।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বনানী কাকলি এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মাঝখান থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মুখ ও হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল। মরদেহের সঙ্গে থাকা ৫ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাসের চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনিরকে আটক করেছে র‌্যাব। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

ইসমাইল হোসেনের বয়স ৫০ বছর। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। স্ত্রী, ছেলে হাসান ও মেয়ে শারমিনকে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে থাকতেন।

ইসমাইলের ছেলে হাসান জানান, তার বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার কথা ছিল। সেই জন্যই বাবা জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন।

হাসান বলেন, প্রায় চার মাস আগে জমি বিক্রি করার জন্য তার বাবা জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে যান। বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। ওই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন এবং গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর তৈরি করেন। সব খরচের পর বাকি ৫ লাখ টাকা নিয়ে তিনি গাজীপুরে ফিরছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয় হাসানের। ইসমাইল জানিয়েছিলেন, রাত ৩টার বাসে জামালপুর থেকে রওনা দেবেন। শুক্রবার সকালে হাসান আশুলিয়ার জিরানি বাসস্ট্যান্ডে বাবাকে নিতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তার ফোন বন্ধ পান।

পরে দুপুরে পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারেন, বনানী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখানে গিয়ে তিনি বাবার মরদেহ শনাক্ত করেন।

ইসমাইলের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস বলেন, কাশিমপুরে ফেরার পথে ইসমাইল কীভাবে বনানীতে গেলেন, সেটিই তাদের কাছে বড় প্রশ্ন। তার ধারণা, টাকা থাকার বিষয়টি জানতে পেরে কোনো ছিনতাইকারী চক্র তাকে অপহরণ করে থাকতে পারে। পরে টাকা নিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে ইসমাইলের মাথা, কপাল, হাত ও হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার হাত ও মুখে স্কচটেপও ছিল।

র‌্যাবের দাবি, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় বাসচালক সোহেল রানাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে মহাখালী এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারকেও আটক করা হয়।

ইসমাইল একসময় ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।

এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং ইসমাইলের ৫ লাখ টাকা কোথায় গেল, তা জানতে তদন্ত চলছে।

এসএস