ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য তাঁর প্রশাসন একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে দুর্বল করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি জোটে আনা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক মিত্রদের একসঙ্গে করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার ভূমিকা পালন করতে পারে।
এ ছাড়া গাজা যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ও পরিকল্পনায় রয়েছে।
আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। একই সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও দেশকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রেও মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনায় সহযোগিতা করবে। তবে নির্বাচনের পর ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও ট্রাম্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি
ট্রাম্প ইতোমধ্যে তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে এ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি বৈঠক করেছেন। সেখানে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। তবে শেষ পর্যন্ত কোন কোন দেশ এতে যুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এসএস




Comments