সময় বদলেছে, বদলেছে ফ্যাশন ও জীবনযাপনের ধরন। তবে পুরোনো দিনের স্মৃতি ও নস্টালজিয়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনো অটুট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে সেই নস্টালজিয়াই এবার ফিরছে নতুন রূপে। বর্তমান সময়ের ছবিকে এআইয়ের মাধ্যমে আশির দশকের আবহে রূপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নতুন এক ট্রেন্ড। এতে যোগ দিয়েছেন দেশের বিনোদন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা।
ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা নিজের একটি রেট্রো লুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড’। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে।

একই ট্রেন্ডে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা তমা মির্জাকেও। আশির দশকের সাজ ও আবহে নিজের ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি।’

ছোট পর্দার অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবও অংশ নিয়েছেন এই নস্টালজিক আয়োজনে। আশির দশকের আবহে তোলা ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদও এআইয়ের মাধ্যমে নিজের ছবিকে আশির দশকের আবহে রূপ দিয়েছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি মজার ছলে প্রশ্ন তুলেছেন, ওই সময় কি সবার একই ধরনের জ্যাকেট ছিল?

এই ট্রেন্ডে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সাফা কবীর ও তাসনিয়া ফারিণও। আশির দশকের লুকে ছবি প্রকাশ করে সাফা কবীর লিখেছেন, ‘আশির দশকের উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে, আর চরকি বিষয়টিকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে!’ অন্যদিকে তাসনিয়া ফারিণ লিখেছেন, ‘ভালোই হতো।’

সংগীতশিল্পী পড়শীও এআইয়ের মাধ্যমে নিজেকে চার দশক আগের সময়ের একটি ফ্রেমে কল্পনা করেছেন। নিজের সেই ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮০ সালে যদি থাকতাম, তাহলে মনে হয় এমন থাকতাম।’

অভিনেত্রী তানজিকা আমিন, মাসুমা রহমান নাবিলা ও বিদ্যা সিনহা মিমকেও দেখা গেছে এই রেট্রো ট্রেন্ডে। তানজিকা লিখেছেন, ‘গা ভাসাইলাম’। নাবিলা পুরোনো দিনের গান ও স্টাইলের সেই সময়কে স্মরণ করে পোস্ট করেছেন। আর বিদ্যা সিনহা মিম তাঁর ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আশির দশকের লুক।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ট্রেন্ডে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নিচ্ছেন। ক্রিকেটার, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ অনেকেই নিজেদের ছবিকে এআইয়ের মাধ্যমে আশির দশকের রেট্রো আবহে রূপান্তর করে শেয়ার করছেন। এ তালিকায় রাজনৈতিক অঙ্গনের সারজিস আলমের ছবিও নজরে এসেছে।

আশির দশকের ফ্যাশনে ছিল ঢিলেঢালা পোশাক, বড় ফ্রেমের সানগ্লাস, চওড়া কলারের শার্ট, নজরকাড়া রঙ ও আলাদা ধরনের হেয়ারস্টাইল। সেই সময়ের এসব বৈশিষ্ট্যই এআইয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের ছবিতে ফিরে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ডিজিটাল নস্টালজিয়া শুধু পুরোনো ফ্যাশনকে ফিরিয়ে আনছে না, বরং তারকাদেরও চার দশক আগের এক ভিন্ন সময়ের ক্যানভাসে হাজির করছে। ফলে প্রযুক্তির হাত ধরে আশির দশকের সেই রেট্রো আবহ এখন নতুন প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠেছে বেশ আকর্ষণীয়।
ডিআর




Comments