স্বাস্থ্য সহকারী আউয়াল হত্যা মামলা, সন্দেহভাজন যুবকের সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারী আউয়াল শফীর (৪৫) রহস্যজনক মৃত্যুর জট খুলতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই যুবকের সন্ধান বা পরিচয় দিতে পারলে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সখীপুর থানা-পুলিশ।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সন্দেহভাজন ওই যুবকের ছবি প্রকাশ করে তাঁর সন্ধান চায়। তবে পুরস্কারের সুনির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ওসি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সিঁড়ির মতো। বর্তমান পর্যায়ে আমাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে থাকা যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’
গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে নলুয়া-বাসাইল সড়কের বাছেত খান উচ্চবিদ্যালয়ের পাশ থেকে আউয়াল শফীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বোয়ালী গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশেই তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। নিহতের মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে দ্রুতগতির কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও, পরিবার শুরু থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
নিহতের চাচাতো ভাই মাওলানা ফরিদ উদ্দিন ও জিয়া হাবিবসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহের আঘাতের ধরন সাধারণ কোনো দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দেয় না।
ঘটনার খবর পেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ঢাকা থেকে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই দিনে নিহতের স্ত্রী তানিয়া আক্তার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে ওই সময়ে সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ওই সন্দেহভাজন যুবকের গতিবিধি শনাক্ত করে তাঁর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন ওই যুবকের বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে সখীপুর থানার ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মো. মুরাদ হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সিঁড়ির মতো। বর্তমান পর্যায়ে আমাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ছবিতে থাকা যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’
তদন্তের স্বার্থে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ডিআর




Comments