Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ ৭–৮ বছর ধরে গ্যারেজে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কনডেম ঘোষণার পরও এটি নিলামে তোলা হয়নি। ফলে সরকারি সম্পদ হিসেবে পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের উত্তর-পশ্চিম কোণে টিনের তৈরি একটি গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে অচল অ্যাম্বুলেন্সটি। বছরের পর বছর ব্যবহারের বাইরে থাকায় এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও কাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অচল যানটি পড়ে থাকায় একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের মূল্য কমছে, অন্যদিকে গ্যারেজের জায়গাটিও দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি দপ্তরের কোনো যানবাহন মেরামতের অযোগ্য কিংবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা কনডেম ঘোষণার বিধান রয়েছে। কনডেম ঘোষণার পর প্রচলিত সরকারি সম্পদ নিষ্পত্তি ও নিলামসংক্রান্ত বিধি অনুসরণ করে যানবাহনটি নিষ্পত্তির কথা। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই, মূল্যায়ন, অনুমোদনসহ নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
তবে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ অ্যাম্বুলেন্সটি কনডেম ঘোষণার পরও বছরের পর বছর নিলামে না ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ফেলে রাখার কারণে অ্যাম্বুলেন্সটির অবশিষ্ট মূল্য আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সটি কনডেম ঘোষণা করা হয়েছে।”
কনডেম ঘোষণার পরও নিলামে তোলা হচ্ছে না কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স নিলাম প্রক্রিয়া অনেক জটিল একটা বিষয়।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিলাম প্রক্রিয়া জটিল হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের অচল অ্যাম্বুলেন্সটি কবে নিষ্পত্তি করা হবে? বছরের পর বছর গ্যারেজে ফেলে রেখে সরকারি সম্পদের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
এসএ