হাসিনা মারা গেলে লাশ বাংলাদেশে আনার সাহস শেখ পরিবারের নেই: রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এক ধরনের চক্রান্ত করছে। আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা মারা গেলে তার লাশ বাংলাদেশে আনার সাহস শেখ পরিবারের নেই।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও এর স্বীকৃতি রয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফেরার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, “কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলাম সহযোগিতা করছে।”
জ্বালানি সংকট নিয়ে জামায়াত ও একদলীয় জোটের লংমার্চের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, “জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট। জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত বা একদলীয় জোট লংমার্চ করছে। এতে দেশে জ্বালানি সংকট আরও বাড়বে। আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি এভাবে লংমার্চ করেন, রাষ্ট্রকে অশান্ত করেন, তাহলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন—জামায়াত কত দিনে, কত সময়ে রাষ্ট্রকে অশান্ত করে। জামায়াতের ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ ফিরে আসার বিষয়টি। আওয়ামী লীগ ফিরে এলে শহীদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেভাবেই আমাকে-আপনাকে হত্যা করবে।”
জামায়াতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী বলেন, “জামায়াত যদি মনে করে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৬ সালের মতো বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, তাহলে এ দেশের জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে।”
তিনি বলেন, “আমার স্পষ্ট কথা, যে সংগঠনটি শহীদ আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে, সেই সংগঠন ও দলটির বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াত চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।”
রাশেদ খান আরও বলেন, “আমরা যারা আধিপত্যবাদবিরোধী, আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করি, তারা অবশ্যই রাজপথে থাকব। রাজপথে থেকে আওয়ামী লীগের সব অপতৎপরতা মোকাবিলা করব।”
আবরার ফাহাদের চেতনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আবরার ফাহাদের চেতনা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হচ্ছে। খুনি হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদীর আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। এটিই তো আবরার ফাহাদের চেতনা।”
তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করে। এ জন্যই আমরা ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলছি। অতীতের রাখীবন্ধন ছিন্ন করে আমরা ভারতের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক গড়তে চাই।”
রাশেদ খান আরও বলেন, “বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার স্টেডিয়ামসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে হল করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে, ইনশা আল্লাহ।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
ডিআর




Comments