ডিমলায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
নীলফামারীর ডিমলায় দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাজার, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা ও অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের একটি অংশ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গ্রামের সহজ-সরল কিশোর ও তরুণদের একা পেয়ে ১৮ বছরের নিচের কিছু কিশোর দলবদ্ধভাবে অন্ধকার ও জনচলাচল কম এমন নির্জন সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এই কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, "আমার একটি মাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ শেষ হওয়ার পথে। আমার ছেলে এখন নিয়মিত স্কুলে যায় না এবং পরিবারের বাবা-মায়ের সঙ্গেও অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আর কোনো অভিভাবক যেন আমার মতো এমন অসহায় পরিস্থিতির শিকার না হন। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—অভিভাবকদের সেদিকে কঠোর নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাতে সন্তানদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যেতে দেওয়াই ভালো।"
এদিকে ডিমলা বিজয় চত্বর এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা এবং পথচারীদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৮ বছরের নিচের একদল কিশোর নিয়মিত সেখানে জড়ো হয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে।
রুমনা নামের স্থানীয় এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পরিবার নিয়ে বিজয় চত্বরে একটু স্বস্তিতে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু কিছু কিশোরের অনাকাঙ্ক্ষিত চলাফেরা ও অশালীন কথাবার্তা শুনে আমরা খুবই বিব্রত ও আতঙ্কিত বোধ করেছি। এমন সুন্দর একটি পরিবেশ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ আর কোথায় গিয়ে স্বস্তিতে ঘোরাফেরা করবে? বিষয়টি প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।"
সুমন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "বিজয় চত্বরের পিছন, ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশ এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পরিত্যক্ত বাসভবনসহ বেশ কিছু নিরিবিলি স্থানে নেশা করার পর বিভিন্ন ধরনের মাদকের খালি বোতল, স্টিক ও নানা উপকরণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে করে পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।"
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের এই উৎপাত বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তাদের কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিজয় চত্বরসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তারা মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই কিশোরদের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই জননিরাপত্তা ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
অনুসন্ধান শেষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, "কিশোর গ্যাং মূলত একটি সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়। এদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সার্বিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
ডিআর




Comments