আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন বরফে আটকে থাকা নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদকে ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।
সোমবার ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ডের রোভানিয়েমিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা আর্কটিক অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, আর্কটিক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, রাশিয়া ওই অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড কার্যক্রম’ চালাচ্ছে।
আর্কটিকের বরফ কমে যাওয়ায় নতুন নৌপথ চালুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ও দূরত্ব কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথ, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ ঘিরে বিভিন্ন দেশের আগ্রহও বাড়ছে।
তবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অর্পো বলেন, আর্কটিক এখন বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ফলে বরফ গলার সঙ্গে আর্কটিক শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতীক নয়, বরং নতুন বাণিজ্যপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সামরিক কৌশলকে ঘিরে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার নতুন মঞ্চ হিসেবেও সামনে আসছে।
সূত্র: Associated Press (AP)
এনএ




Comments