জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
সাত আসামিকেই পলাতক দেখিয়ে মামলার বিচারকাজ চলে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে তারা ভূমিকা রাখেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতা হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, বিভিন্ন সমাবেশে ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিও এবং বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সশস্ত্র ক্যাডারদের ব্যবহার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মক্কেলরা কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনের ঘটনায় তার মক্কেলদের নাম আসেনি এবং তারা অধীনস্থ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
আজকের রায়ের মাধ্যমে এই মামলায় সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এসএস




Comments