Image description

গ্যাসের সংকটের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেখান থেকেও পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে। কম উৎপাদনে চলছে পায়রা ও আরএনপিএল কেন্দ্র। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও রয়েছে কারিগরি ত্রুটি। ভারতের ঝাড়খন্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রের উৎপাদনেও দেখা দিয়েছে ওঠানামা।

দেশের সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ধরলে কয়লাভিত্তিক মোট সক্ষমতা ৭ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। রোববার বেলা ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার বিকেলে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৬৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।

কেন্দ্রটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে আরও অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে।

এর আগে রামপাল থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। কয়েকদিন আগেও কয়লা সরবরাহের ঘাটতিতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল।

পায়রা ও আরএনপিএলে কম উৎপাদন

১ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বর্তমানে প্রায় ৫৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কেন্দ্রটির উৎপাদন কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই সক্ষমতার আরএনপিএল কেন্দ্র থেকেও পূর্ণ উৎপাদন হচ্ছে না। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে ৪৪৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও বর্তমানে মাত্র ২০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে।

আদানির কেন্দ্রেও ওঠানামা

ভারতের ঝাড়খন্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট। কারিগরি ত্রুটির কারণে গত ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদন বাড়ানো হলেও সরবরাহে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার বিকেল ৫টায় আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ১৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।

তবে মাতারবাড়ি ও এসএস পাওয়ার কেন্দ্র দুটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে। মাতারবাড়ি থেকে ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট এবং এসএস পাওয়ার থেকে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতি ১ হাজার ৬৮৬ মেগাওয়াট

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে কম বিদ্যুৎ পাওয়ার মধ্যে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধানও বেড়েছে। পিজিসিবির হিসাবে, সোমবার বিকেল ৫টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৮৬ মেগাওয়াট।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১ হাজার ৬১১ মিলিয়ন এবং এলএনজি থেকে ৭৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া গেছে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশের ৭২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৪২টিতে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এসব কেন্দ্রের প্রয়োজন ২ হাজার ৫২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে গ্যাস ও কয়লা—দুই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রেই উৎপাদন ঘাটতি থাকায় বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এসএস