বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার লালমনিরহাটের আমেনা খাতুন (২৮) দীর্ঘ নয় বছর মৃত্যু যন্ত্রণায় ভুগে অবশেষে মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আফজাল হোসেন আপনসহ সব আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শতাধিক নারী-পুরুষ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন নিহত আমেনার মা জাহানারা বেগম, নানা লোকমান হাকিম, ভাই জাকির হোসেন, এলাকাবাসী মহুবার রহমান, আওয়াল ইমন, স্বপ্না রানী রায়, লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি স্বপ্না আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক নাসিমা ইয়াসমিনসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া এলাকার মৃত আমিনুর ইসলামের মেয়ে আমেনা খাতুনের বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা। এর পর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন আমেনা। গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই জাকির হোসেন বলেন, নয় বছর আগে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁর ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো হতো। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় স্বামী আফজাল তাঁর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও দীর্ঘ নয় বছরেও বিচার শেষ হয়নি। মামলার প্রধান আসামির মা আছিয়া বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
আমেনার মৃত্যুর পর বিচার চেয়ে নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে কষ্ট পেয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে গত ১২ আগস্ট তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আমার মেয়ে মারা যায়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
বক্তারা দ্রুত প্রধান আসামি আফজাল হোসেন আপনসহ সব আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’
এমআর




Comments