চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারে মাছ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট শেড থাকলেও সড়কের ওপর বসছে মাছের বাজার। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য রেখে দখল করা হচ্ছে ফুটপাত ও সড়কের অংশ। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের ভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও ফুটপাত দখলের বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো সেতু থেকে মসজিদ পর্যন্ত হালদারপাড় ও আশপাশের সড়কের বিভিন্ন অংশে মাছের ঝুড়ি, ডালা, বাঁশের খাঁচা, বরফের বাক্সসহ নানা সামগ্রী রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর টাঙানো হয়েছে সামিয়ানা। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু মাছ বিক্রেতারাই নন, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে পণ্যসামগ্রী রাখছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।
নাজিরহাট বাজার আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হাসান কবির বলেন, নতুন সেতু থেকে আদর্শ স্কুল পর্যন্ত সড়কটি বাজারের বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিভিন্নভাবে সড়কের জায়গা দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সড়কটি দখলমুক্ত করে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
মাছ কিনতে আসা নারী ক্রেতা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “বাজারে চলাচলের জায়গা অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। অনেক সময় পুরুষদের পাশ কাটিয়ে যেতে থেমে থাকতে হয়। এতে নারী ক্রেতা হিসেবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।”
কয়েকজন ছাত্রীও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয় ও কলেজ ছুটির সময়ে সরু সড়কে শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তখন ভোগান্তি আরও তীব্র হয়। অনেক সময় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পেরে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প পথে বাড়ি ফিরতে হয়।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রহমত উল্যাহ বলেন, “সড়কে বাজার বসিয়ে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসএ




Comments