Image description

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী এলাকায় তিন যুগেও পাকা হয়নি প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। রামনাবাদ নদীর কোলঘেঁষে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

বর্ষা এলেই সড়কটির বিভিন্ন অংশে হাঁটুসমান কাদা-পানি জমে যায়। এতে স্কুল, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেক সময় কাদা-পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত থাকতে হয়। একই সঙ্গে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলও হয়ে পড়ে দুর্বিষহ।

এলাকাবাসী জানান, নলুয়াবাগীর প্রধান সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে প্রায় ২৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। এসব সড়কের অধিকাংশই কাঁচা। ফলে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে খাটে করে কাদা-পানি মাড়িয়ে নিয়ে যেতে হয়।

সড়ক পাকাকরণের দাবিতে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। এর মধ্যে সড়কের ওপর ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদও করেছেন তারা। তবে এতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

নলুয়াবাগীর বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, “এখানকার রাস্তাগুলোর অবস্থা একেবারেই নাজুক। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী, নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”

গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, “নলুয়াবাগীর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। একজন অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হলে খাটে করে নিতে হয়। এক-দুটো সড়ক ছাড়া প্রায় সব রাস্তাই কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা-পানি থাকে। ২০২৬ সালে এসেও আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, “নলুয়াবাগীর প্রধান সড়কটি এখনও কাঁচা রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার প্রধান সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারি, কিন্তু রাস্তা পাকাকরণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী মহোদয়রা ডিও লেটার দিলে পর আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি।”

এলজিইডির তথ্যানুযায়ী, পটুয়াখালী জেলায় মোট ১২ হাজার ৩৩৮ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে গলাচিপা উপজেলায় ২ হাজার ৩৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে পাকা হয়েছে ৪০৮ দশমিক ৯০ কিলোমিটার। বাউফলে ২ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে পাকা ৮৭০ দশমিক ৮০ কিলোমিটার, দশমিনায় ৯৮৪ কিলোমিটারের মধ্যে ২২৯ কিলোমিটার, কলাপাড়ায় ১ হাজার ৯৮৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৩৯২ দশমিক ৬০ কিলোমিটার, মির্জাগঞ্জে ৯২৬ দশমিক ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার, দুমকীতে ৪৭৯ দশমিক ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, রাঙ্গাবালীতে ৮২৯ দশমিক ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫০ দশমিক ৬০ কিলোমিটার এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৬৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে নলুয়াবাগীর কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এসএ