Image description

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ছাওতুন কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা। সম্প্রতি এ মাদ্রাসার ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মুস্তাকীম পাঠান সাদমান মাত্র ১৮ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। একই সঙ্গে আরও দুই শিক্ষার্থী ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছে।

২০১৮ সালে ধনবাড়ী পুরাতন থানা ভবনের প্রায় ১০০ গজ উত্তরে নিজবর্ণি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-জয়দেবপুর-জামালপুর মহাসড়কের পূর্ব পাশে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দক্ষ শিক্ষকদের পাঠদানে প্রতি বছর এ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে আসছে।

এ উপলক্ষে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাওতুন কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার হলরুমে শিক্ষার্থীদের ছবক গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান। প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য দেন হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ধনবাড়ী উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী মো. মাহফুজুল হক।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ খাইরুল ইসলাম মুন্সী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম মোহাব্বত, নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ধোপাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি রফিক আহমদ এবং ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির সাংবাদিক হাফিজুর রহমান। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হাফেজ আবু সাঈদ পাঠানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ, নিরাপত্তা, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীলতার কারণে ধনবাড়ী উপজেলায় মাদ্রাসাটি সুনাম অর্জন করেছে। এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুধু ধনবাড়ী বা টাঙ্গাইল নয়, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন কোরআন-হাদিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। এসব প্রতিযোগিতায় তারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছে, যা ধনবাড়ীবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। আগামী দিনে এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু সাঈদ পাঠান, হারুন অর রশিদ বিএসসি, মোছা. মোমিনা সাঈদ ও মেরিনা খাতুনসহ অন্যরা বলেন, ধনবাড়ী উপজেলার মধ্যে ছাওতুন কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি একজন হাফেজ। মহান আল্লাহ আমাকে কোরআনের হাফেজ হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তাই আমার প্রত্যাশা, আমার মতো শিশুরাও কোরআন শিখে দ্বীনদার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে। একই সঙ্গে পরকালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করবে। এই প্রত্যাশা থেকেই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি। মাদ্রাসার উন্নয়নে ধনবাড়ীবাসীর নেক দৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

এসএ