Image description

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে তাঁর সম্মানে বড় পরিসরে যে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, সেটিও আর হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করার পর ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর ভাষণ এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে সংবর্ধনার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছে ২৫ সেপ্টেম্বরই দেশে ফিরে যাবেন। ফলে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নির্ধারিত বড় পরিসরের সংবর্ধনায় তাঁর অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

চার দিনের সফর

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে তাঁর সফর দীর্ঘ করার পরিকল্পনা ছিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে ২১ থেকে ২৯ বা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং সানফ্রান্সিসকো সফরের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সিদ্ধান্তে সানফ্রান্সিসকো সফরও বাদ দেওয়া হয়েছে। সফর সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

কেন সংবর্ধনা বাতিল?

সংবর্ধনা বাতিলের কারণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে একাধিক তথ্য এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—সরকারি অর্থ ব্যয় করে বড় ধরনের নাগরিক সংবর্ধনা নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহী নন। বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াস আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে সংবর্ধনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে তারেক রহমান সরকারি অর্থ ব্যয় করে এমন সংবর্ধনা নিতে চাননি। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে দলীয় উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ওই দিনই দেশে ফিরে গেলে তাঁর উপস্থিতিতে নির্ধারিত সংবর্ধনা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

৫ কোটি টাকা সাশ্রয়’—দাবিটির সত্যতা কতটা?

সংবর্ধনা বাতিলের ফলে প্রায় ৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে—এমন দাবি কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই অঙ্কটি সব সংবাদমাধ্যমে একইভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো কোনো প্রতিবেদনে প্রায় ৫ কোটি টাকা সাশ্রয়ের কথা বলা হলেও, অন্য একটি প্রতিবেদনে সরকারি সংবর্ধনার সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার দলীয়ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করলে ব্যয় আরও বেশি হতে পারে—এমন দাবিও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

ফলে 'সংবর্ধনা বাতিলের ফলে ঠিক ৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে’—এটিকে নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত করার অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বড় সরকারি ব্যয়ে সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও প্রকাশিত হয়েছে।

দলীয়ভাবে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ

সরকারি অর্থে বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বড় নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন এগোচ্ছে না—এমন তথ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কিছু নেতা দলীয় বা ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে যাওয়ায় আগে নির্ধারিত সংবর্ধনা তাঁর উপস্থিতিতে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ওই দিন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনার কথা তিনি জানিয়েছেন।

অর্থাৎ, বর্তমানে যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হলো—নিউইয়র্কে তারেক রহমানের জন্য পরিকল্পিত বড় পরিসরের আনুষ্ঠানিক নাগরিক সংবর্ধনা তাঁর উপস্থিতিতে আর হচ্ছে না। তবে এটিকে নিউইয়র্কে তাঁকে ঘিরে সব ধরনের দলীয় বা প্রবাসী কর্মসূচি বাতিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর আগের পরিকল্পনার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। নিউইয়র্কে তাঁর মূল কর্মসূচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকেন্দ্রিক থাকবে। একই সময়ে তাঁর সম্মানে পরিকল্পিত বড় নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল হওয়ায় সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এসএ