Image description

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও বাঁশখালীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১ হাজার ২৬০ বস্তা বা প্রায় ৬৩ টন সিমেন্টসহ দুটি বোট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তবে বাঁশখালীতে অভিযান চালানোর সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

কোস্টগার্ড জানায়, শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী উপজেলার বাংলাবাজার ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাঁশখালী কন্টিনজেন্ট। এ সময় একটি সন্দেহজনক ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৫১০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সিমেন্টের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৫ টন এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর পতেঙ্গা থানার বহির্নোঙর এলাকায় অভিযান চালায় পতেঙ্গা কোস্টগার্ড আউটপোস্ট। এ সময় সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট পাওয়া যায়। এসব সিমেন্টের ওজন প্রায় সাড়ে ৩৭ টন এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পরে সিমেন্টসহ বোটটি জব্দ করা হয়। অভিযানে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

কোস্টগার্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুটি অভিযানে জব্দ করা সিমেন্টের মোট পরিমাণ ১ হাজার ২৬০ বস্তা, যা প্রায় ৬৩ টন। জব্দ করা দুটি বোটের মধ্যে একটি ফিশিং বোট এবং অন্যটি কার্গো বোট।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় অবৈধভাবে পণ্য পাচার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়।

জব্দ করা সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট এবং আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সিমেন্টগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসএ